দৌড় শেষে শিরিন আক্তার সন্দিহান ছিলেন এবং বিচারকদের দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন। নৌবাহিনীর পতাকা হাতে বিচারকদের আসনের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ১৭তম বার দ্রুততম মানবী হওয়ার ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন। মিডিয়া কর্মীরা সুমাইয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শিরিন প্রতিবাদ করে বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করব।” তবে তার প্রতিবাদ ‘অন প্রটেস্ট’ হিসেবে রয়ে গেছে। ফটোফিনিশিং পর্যালোচনার পর সুমাইয়া দেওয়ানকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
স্বর্ণ জয়ের পর সুমাইয়া বলেন, “অনেক পরিশ্রম করে আমি প্রথম হয়েছি। আমার কোচ মেহেদী হাসান যেভাবে ট্রেনিং করিয়েছেন, তার ফল পেয়েছি। এখন এসএ গেমসেও ভালো কিছু উপহার দিতে চাই।”
পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে লন্ডন প্রবাসী নৌবাহিনীর স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান ১০.৬৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্রুততম মানবের খেতাব পুনরুদ্ধার করেন। গত ফেব্রুয়ারিতে এই খেতাব হারানো ইমরানুর ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এসে সোনা জিতেছেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন সেনাবাহিনীর আবদুল মোতালেব (১০.৮৬ সেকেন্ড), আর ব্রোঞ্জ জিতেছেন নৌবাহিনীর মো. ইসমাইল (১০.৮৮ সেকেন্ড)। জয়ের পর ইমরানুর বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, নৌবাহিনীর জন্য জিততে পেরেছি। ইনজুরির কারণে কঠিন সময় পার করেছি। আবার ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে। সামনে ইসলামিক গেমস ও দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে সোনা জেতাই আমার লক্ষ্য।”
প্রথম দিনে দুটি জাতীয় রেকর্ড
প্রথম দিনে ১১টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে দুটিতে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়া হয়। বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে পুরুষদের ডিসকাস থ্রোয়ে সেনাবাহিনীর আবদুল আলিম ৪৬.৯৪ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ২০১০ সালের আজহারুল ইসলামের ৪৪.৯৮ মিটারের রেকর্ড ভাঙেন। এছাড়া মেয়েদের শটপুটে সেনাবাহিনীর জান্নাত বেগম ১৩.৯১ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নৌবাহিনীর জাকিয়া আক্তারের ১৩.৫২ মিটারের পুরোনো রেকর্ড ভাঙেন।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। উদ্বোধনী দিনে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ৪৬ জন অ্যাথলেটকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।