ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) ২০২৫-এর একটি ম্যাচে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের সামনে দাঁড়িয়েছিল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের ২১২ রানের বিশাল লক্ষ্য। কিন্তু ৪৬ বছর বয়সী ইমরান তাহিরের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে সাকিব আল হাসানের দল। মাত্র ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইমরান তাহির নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার গড়েন, যার ফলে অ্যান্টিগা ১৫.২ ওভারে ১২৮ রানে অলআউট হয়ে ৮৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হার মানে।
সাকিব আল হাসানের বাজে সময় এই ম্যাচেও অব্যাহত ছিল। ব্যাট হাতে তিনি ৭ বলে একটি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৮ রান করেন। পাওয়ারপ্লের পর প্রথম বলেই ইমরান তাহির তাকে আউট করেন, যা থেকে শুরু হয় অ্যান্টিগার ধস। এরপর ইমাদ ওয়াসিম, শামার স্প্রিঙ্গার, উসামা মির ও ওবেদ ম্যাকয়ের উইকেট তুলে নেন তাহির, যিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নেন।
ম্যাচের শুরুতে অ্যান্টিগার টপ অর্ডার বড় রান তাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ওপেনার রাকিম কর্নওয়াল ৩ বলে একটি চার ও ছক্কায় ১০ রান করেন। অপর ওপেনার জুয়েল অ্যান্ড্রু ৬ বলে ১৩ রানের ইনিংস খেলেন। দলের সবচেয়ে সফল ব্যাটার কারিমা গোর এদিনও উজ্জ্বল ছিলেন, ১৪ বলে ৩১ রান করে দলকে এগিয়ে নেন। পাওয়ারপ্লেতে অ্যান্টিগা তুলে ফেলে ৭৭ রান, যা জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। কিন্তু ইমরান তাহিরের বোলিং ঝড়ে সব আশা ভেস্তে যায়।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসী। শাই হোপ ৫৪ বলে ৮২, শিমরন হেটমায়ার ২৬ বলে ৬৫ এবং রোমারিও শেফার্ড ৮ বলে ২৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে দলকে ২০ ওভারে ২১১/৩ রানের বিশাল স্কোর গড়ে দেন। অ্যান্টিগার বোলারদের মধ্যে শামার স্প্রিঙ্গার ছিলেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল, ৪ ওভারে ৬১ রান দিয়ে তিনি দলের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রান দেওয়ার রেকর্ড গড়েন। সাকিব ২ ওভারে ১৬ রান দেন, তবে কোনো উইকেট পাননি।
এই হারের ফলে সিপিএল ২০২৫-এ অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের এটি দ্বিতীয় পরাজয়। ৫ ম্যাচে তারা ২ জয় পেয়েছে, একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। সাকিবের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এই আসরে এখনো উজ্জ্বল হয়ে ওঠেনি, তবে দলের জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে।