আর্জেন্টিনায় কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল বিশ্ব কেঁপে উঠেছে ভয়াবহ সহিংসতায়। বুধবার রাতে বুয়েনস আয়ার্স প্রদেশের আভেয়ানেদায় ইন্ডিপেনদিয়েন্তে ও চিলির ক্লাব ইউনিভার্সিদাদ দে চিলের ম্যাচে ছুরি, লাঠি, স্টান গ্রেনেড এবং টয়লেটের অংশ ব্যবহার করে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দুই দলের সমর্থকরা।
ম্যাচ চলাকালীন দাঙ্গায় অন্তত ১৯ জন চিলিয়ান নাগরিক আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম। আর্জেন্টাইন পুলিশ ১২৫ জনকে আটক করেছে। বিরতির সময় ঘটনা চরম আকার নেয়, যখন অতিথি দলের সমর্থকরা পাথর, বোতল ও চেয়ার ছুড়তে শুরু করলে উত্তেজিত স্বাগতিক সমর্থকরা গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে চিলিয়ান ভক্তদের হামলা চালায়। অনেককে কাপড় ছিঁড়ে রক্তাক্ত করা হয়, এক চিলিয়ান সমর্থক প্রাণ বাঁচাতে গ্যালারির উপরের স্তর থেকে লাফ দিয়ে সৌভাগ্যবশত বেঁচে যান।
ম্যাচ তখন ১-১ সমতায় চলছিল। ৪৮ মিনিটে খেলা স্থগিত করে ম্যাচ কর্মকর্তারা, পরে সেটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ সহিংসতাকে ‘বর্বরতা’ আখ্যা দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিক এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য গণপিটুনি’ বলে ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বুয়েনস আয়ার্সে পাঠান।
ইউনিভার্সিদাদ দে চিলের সভাপতি মাইকেল ক্লার্ক জানান, দুজন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন, তবে অলৌকিকভাবে কেউ মারা যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ছবি ফুটবল বিশ্বে চমক সৃষ্টি করেছে। চিলি জাতীয় দলের খেলোয়াড় ফিলিপে লয়োলা লিখেছেন, “এ ধরনের সহিংসতা সহ্যযোগ্য নয়, পুলিশ কোথায় ছিল বুঝতে পারছি না।” আর্জেন্টিনার সমর্থকরা দায় চাপিয়েছেন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর, বিশেষ করে অতিথি সমর্থকদের স্বাগতিকদের কাছাকাছি বসানোর জন্য।