ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ও আইপিএলের সেনসেশন রিংকু সিং এবং উত্তর প্রদেশের মাছলিশহর থেকে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ প্রিয়া সরোজ গত জুনে বাগদান সম্পন্ন করেছেন। এই দম্পতি এ বছরের শেষ দিকে, সম্ভবত নভেম্বরে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছেন।
২০২৩ সালের আইপিএলে শেষ পাঁচ বলে ছক্কা মেরে দলকে জয় এনে দিয়ে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া রিংকু এবং মাত্র ২৫ বছর বয়সে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে পৌঁছানো প্রিয়া, দুজনেই উত্তর প্রদেশের সন্তান। তবে, রিংকুর বাড়ি আলীগড়ে আর প্রিয়ার বাড়ি বারানসিতে। অনেকে ধারণা করেছিলেন, রিংকু তারকা হওয়ার পর বা প্রিয়া সাংসদ হওয়ার পর তাদের পরিচয় হয়েছে। কিন্তু আসল গল্প ভিন্ন।
রিংকু ও প্রিয়ার প্রথম পরিচয় হয়েছিল ২০২২ সালে, যখন দুজনের কেউই তাদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না। রিংকু তখনো আইপিএলে তারকা হননি, ভারতীয় দলে খেলা তো অনেক দূর। প্রিয়াও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি। তাদের পরিচয় হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সম্প্রতি ‘নিউজ ২৪ স্পোর্টস’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে রিংকু তাদের প্রথম পরিচয়, প্রেম এবং বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সঞ্চালকের প্রশ্নে রিংকু জানান, “২০২২ সালে, করোনার সময় মুম্বাইয়ে আইপিএল চলছিল। আমার একটি ফ্যান পেজে প্রিয়ার ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। তার গ্রামে ভোট হচ্ছিল, আর কেউ হয়তো তাকে বলেছিল যে স্টোরি পোস্ট করলে তার উপকার হবে। প্রিয়ার বড় বোনের একটি ব্যবসা আছে, সেটা নিয়ে স্টোরি পোস্ট করা হয়। আমি প্রিয়ার ছবি দেখে ভাবলাম, এই মেয়েটিই আমার জন্য পারফেক্ট। প্রথমে মেসেজ করতে দ্বিধা করেছিলাম, কিন্তু পরে দেখি সে আমার এক-দুটি ছবিতে লাইক দিয়েছে। তখন আমি তাকে ইনস্টাগ্রামে মেসেজ করি। সেখান থেকেই শুরু।”
রিংকু আরও বলেন, “প্রিয়া সঙ্গে সঙ্গে মেসেজের জবাব দিয়েছিল। আমরা কথা বলা শুরু করি। এক-দেড় সপ্তাহ পর থেকে নিয়মিত কথা হতো। ম্যাচের আগে কথা বলতাম, আর ২০২২ সালেই আমাদের মধ্যে প্রেমের অনুভূতি তৈরি হয়।”
প্রিয়ার পরিবার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা তুফান সরোজ তিনবারের সাংসদ। ২০২৪ সালে তিনি মেয়ে প্রিয়াকে মাছলিশহর থেকে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী করেন। নির্বাচনে প্রিয়া বিজেপির প্রার্থী বিপি সরোজকে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ সাংসদ হন। প্রিয়ার নির্বাচনী ফল প্রকাশের সময় রিংকু ছিলেন নিউইয়র্কে, ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলের ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে। সে সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে রিংকু বলেন, “আমি তখন নিউইয়র্কে, ভোর ৪টার দিকে। ভারতে রাত ছিল। তখন তার ফলাফল বেরোল। ২৫ বছর বয়সে এমপি হওয়া বড় ব্যাপার। তার বাবা তাকে অনেক সহায়তা করেছেন।”
প্রিয়া সাংসদ হওয়ার পর তাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না জানতে চাইলে রিংকু বলেন, “তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখিনি। তবে আগে আমরা সারাদিন কথা বলতাম, এখন ততটা হয় না। সে এখন গ্রামে ঘোরে, মানুষকে সাহায্য করে, সংসদের সেশনে ব্যস্ত থাকে। দিনে কথা কম হয়, রাতে কথা হয়।”
বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে রিংকু জানান, নভেম্বরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে, তবে তাদের ব্যস্ততার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। বিয়ের জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রিয়া সুইজারল্যান্ডের কথা বলেছেন, আর রিংকু চান নরওয়েতে যেতে। “আমি অনেক ভ্লগ দেখি, নরওয়ে আমার কাছে খুব সুন্দর লেগেছে,” বলেন রিংকু।